
নিজস্ব প্রতিবেদক : গণহত্যা দিবস উপলক্ষে নগরীর পাহাড়তলীর জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। সে সময় দিকনির্দেশনাহীন একটি জাতিকে চট্টগ্রাম থেকেই সাহস জুগিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আহবানে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বিপ্লব উদ্যান এলাকা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইতিহাস আমাদের গর্বের অংশ। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। আমরা এখনও সঠিকভাবে জানতে পারিনি কতজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কতজন শহীদ হয়েছেন। একটি নির্ভুল গেজেট প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত না হয়।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি এবং অযোগ্য ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। যারা প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ করেছেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক স্থাপনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে সিটি কর্পোরেশনও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা দায়মুক্ত হতে পারব না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা সহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ।
