রেয়াজউদ্দিন বাজারে ফেস্টিভ সেল কার্যক্রম উদ্বোধন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, আমাদের অনেকের জীবনে অনেকগুলো উৎসব থাকতে পারে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যারা মুসলিম তারা এ দু’টি উৎসব পালন করে। একটি ঈদুল ফিতর ও অন্যটি ঈদুল আযহা। উন্নত বিশ্বে উৎসবে দাম কমে আর আমাদের দেশে এক ধরণের অসৎ ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে রাখে। এদেশে যারা সাধারণ, নিম্ন মধ্যবিত্ত, গরীব, অসহায় মানুষ, মধ্যবিত্ত তারা যেন ঈদ উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা উদ্যেগ নিয়েছি।

বাংলাদেশের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বিকাশের মূল কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক কোন সিদ্ধান্ত হতে হলে, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কোন নতুন পলিসি আসতে হলে প্রথম পাইওনিয়ার রোল প্লে করবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য রোল মডেল হয়ে গিয়েছেন এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ব্যবসার আজকের যে সুফল সেটি শুধু চট্টগ্রামবাসী নয়, সারা বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ভোগ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এই সুফলের মূল কারিগর।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২৩ মে ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে দ্রব্যমূল্য হ্রাসকল্পে রেয়াজউদ্দিন বাজারে ৩ দিনব্যাপী ‘ফেস্টিভ সেল’ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি রেয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন মুদিমাল ও মসলার দোকানে পণ্যের ছাড়কৃত মূল্য তালিকা দেখেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার, অন্যান্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ, কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের গ্রেডার ইনচার্জ বেল্লাল হোসেন মোল্লা, রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ছালামত আলী, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জানে আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম, যুগ্ম সম্পাদক আবদুস শুক্কুর, মোঃ ফারুক শিবলী, অর্থ সম্পাদক কাজী মাহবুবুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আবদুল মোমেন।

ডিসি বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বাজার থেকে শুরু করে যাতায়াত পরিবহণে অস্থিরতা শুরু হয়। এই অস্থিরতা বা উম্মাদনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চেয়েছি। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা বাংলাদেশেও একই কাতারে দাঁড়াতে চাই। ধনী-গরীব সবাই মিলে যখন একটি পরিবেশে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে তখন উৎসব তার স্বার্থকতা পাবে। জেলা প্রশাসক বলেন, খাতুনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা যেভাবে কথা দিয়েছিল তারা সেভাবে পাইকারীতে আদা থেকে শুরু করে পেয়াঁজ, রসুন সবগুলোতে দাম কমিয়েছে। তার ফলশ্রুতিতে রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরাও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ব্যাপারে যা কথা দিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছে।

কোন কোন মসলার ক্ষেত্রে কেজিতে ৪’শ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। ঈদের সময় আদা, পেয়াঁজ, রসুন, মরিচ, বিভিন্ন ধরণের মসলাসহ যে পণ্যগুলো মানুষের প্রয়োজন বেশি হয় সেগুলোতে ৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমিয়েছে। ব্যবসার আজকের যে সুফল সেটি শুধু চট্টগ্রামবাসী নয়, সারা বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ভোগ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এই সুফলের মূল কারিগর। তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আদার বাজারে অস্থিরতা ছিল। আমরা সেটা যাচাই করে দেখেছি। খাতুনগঞ্জ বাজারে যারা আদা ব্যবসায়ী তাদের সাথে বসে জানতে পেরেছি ৪১ কন্টেইনার আদা কাস্টমসের জন্য বন্দরে আটকা ছিল। কাস্টমস কমিশনারের সাথে কথা বলে আজকে পর্যন্ত ৩৭ কন্টেইনার আদা খালাসের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। পরে আরও কয়েকটি কন্টেইনার এসেছে, এগুলো আজ-কালকের মধ্যে সকল কন্টেইনার খালাসের ব্যবস্থা করবেন বলে কাস্টমস কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন। ফলে মার্কেটে আদার দাম আরও কমবে। কেউ সিন্ডিকেট করে পার পাবে না। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই-এমন দৃষ্টান্ত স্থাপনে তিনি আগামী দিনে সাংবাদিকদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

কোন জায়গায় যদি কোন পণ্যের দামে ব্যর্থ ঘটায় তাহলে আমাদের জেলা-উপজেলায় মাঠে থাকা মোবাইল টিমগুলো ব্যবস্থা নেবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব নিয়ে আমরা মানুষকে একটি স্বস্তিদায়ক ঈদ উপহার দিতে চাই। সকল পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে জেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান ডিসি।

0Shares

নিউজ খুজুন