শুধু নতুন প্রজন্ম নয় সব প্রজন্মই একটি গাইডেন্স প্রত্যাশা করছে : তারেক রহমান

রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে দেশের জাতীয় পর্যায়ের সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে তা দেশের মানুষ ৫ আগস্ট দেখেছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে আনতে হবে। মতপার্থক্য যেন মতবিরোধের পর্যায়ে না যায়।আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে কোন মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। কিন্তু আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। তাই মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’‘তার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি দিকনির্দেশনা ও আশার খোঁজ করছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, সব প্রজন্মই একটি গাইডেন্স প্রত্যাশা করছে। যারা রাজনীতি করেন, তাদের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেন, তাহলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’ ‘শুধু নারীর নয়- নারী ও পুরুষ সবারই নিরাপত্তা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে- তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের গভীরভাবে ভাবা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আগামী ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকালে আমরা সকলে জনগণের কাছে যাবো। জনগণের ভোটে আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সকলের সমালোচনা সঙ্গে নিয়েই আমরা জনগণের সকল সমস্যা সমাধান করবো।  তিনি নারী, কৃষক, প্রবাসী ও তরুণসহ নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। সেটা থাকতেই পারে। এসব মতপার্থক্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে হবে। কিন্তু, সেটি যেন কোনোভাবেই জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টে আমরা দেখেছি তার পরিণতি কী হতে পারে।’ আমাদের সমস্যা ছিল। আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার একপাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর একটি জানাজা এবং আরেক পাশে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। আমার মনে হয়, এটি আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতা, কর্মী, সদস্য ও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দু’টি বাছবিচার করার জন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ যে, ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।’হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবেই আমরা বিবেচনা করি— তার পরিণতি কী হতে পারে, আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করবো— দলমত নির্বিশেষে, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হবো।’

এখানে একজন বক্তা পানির কথা বলেছেন। তার (ওই বক্তার) সঙ্গে আমার কিছুদিন আগে কথা হয়েছিল। তার সামনে আমি আরো বিষয় তুলে ধরেছি। দেশে ফিরে আসার পরে যে কয়বার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সাভারে গিয়েছিলাম। আরো কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে— নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি প্রজন্মই মনে হয় একটি গাইডেন্স চাইছে।সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সন্তানদের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কিছুটা কম হয়েছে

অনেকে মেসে বা বাসায় বসে কাজ করেন। তাদের যদি একটি ব্যবসায়িক ঠিকানা বা স্পেস দেওয়া যায়, তবে তারা আরো বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের টাকা দেশে আনার ক্ষেত্রে পেপ্যাল-সহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।’ এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়বে। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম বা তর্কবিতর্ক করছি, যার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের প্রাত্যহিক চাওয়া-পাওয়া ও প্রয়োজনগুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর আরো বেশি আলোচনা করা উচিত। এসব বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আরো সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই, যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা, সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই— যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই।

 

0Shares

নিউজ খুজুন