
বিশ্বব্যাপী চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। কেননা মৌলিক স্তম্ভগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ খাদ্য। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের গুণমান নিশ্চিত করতে পারলে আন্তর্জাতিক খাদ্য বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আজ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘মর্ডান ফুড সেইফটি সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা অর্জনের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিকমানের স্বীকৃত পরীক্ষাগার প্রয়োজন। জাপান সরকারের সহযোগিতায় একটি ঋণ চুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় একটি আধুনিক নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার যা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জাতীয় রেফারেন্স পরীক্ষাগার হিসাবে কাজ করবে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় বিভাগীয় নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার ও কার্যালয় ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাদ্য পরীক্ষণ ও বিচারিক কার্যক্রম সুদৃঢ় করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Shinichi Saida বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাপান দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জ্বালানি, বন্দর, সড়ক ও মহাসড়ক, মেট্রো, সেতু, কৃষিসহ নানা খাতে সহযোগিতা করে আসছে। রাষ্ট্রদূত আরো উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য একটি নতুন খাত হিসেবে আমাদের সহযোগিতার পরিসরকে আরো বিস্তৃত করেছে। তিনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে খাদ্যসচিব মোঃ মাসুদুল হাসান বলেন, আমাদের একটি সম্পূর্ণ আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) এবং JICA’র STIRC প্রকল্প, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় আধুনিক নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছে।
খাদ্য সচিব মোঃ মাসুদুল হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Shinichi Saida এবং জাইকা বাংলাদেশের চীফ রিপ্রেজেনটেটিভ Mr. Tomohide Ichiguchi ।
সেমিনারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন খাদ্য শিল্পের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
