নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল তথাকথিত নির্বাচন

ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,আমি জানি ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। নদীভাঙন সমস্যা, কর্মসংস্থান সমস্যা, জেলাগুলোর বিভিন্ন উপজেলায় সেতু, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট—এগুলোর সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলো গত এক যুগে সংস্কার, মেরামত ও তৈরির প্রয়োজন ছিল।যা বিগত সরকার করেনি। এই সমস্যাগুলো সমাধান হওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হয়নি। কারণ জনগণের ভোটের অধিকার ছিল না। নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল তথাকথিত নির্বাচন।

২৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ এই সমাবেশে আরো বলেন যেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুবক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি। এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। এই দেশের মানুষ, তাদের যে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যে অধিকারের জন্য গত ১৬ বছর গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যে অধিকারের জন্য ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে, সেই অধিকার আগামী মাসের ১২ তারিখে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে ইনশা-আল্লাহ। কী সেই অধিকার? ভোটের অধিকার। কেন এই ভোটের অধিকার দরকার? কারণ আমরা চাই এই দেশের মালিক যে জনগণ, তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। যাতে জনতার ইচ্ছামতো সামনে চলতে পারে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যই ভোটের অধিকার। মানুষের কথা বলার অধিকার, মানুষের ন্যায্য অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে—এ জন্যই দরকার ভোটের অধিকার।

তিনি আরও বলেন, তরুণরা, যুবকরা কী চায়? তারা চায় দেশে কর্মসংস্থান হবে। দেশে মিল-ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে করে সুন্দরভাবে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে। মানুষ অসুস্থ হতেই পারে, হওয়াটাই স্বাভাবিক, অসুস্থ হলে যেন মানুষ চিকিৎসা পায়। আমরা যদি ময়মনসিংহের কথা বলি, এখানকার কৃষক ভাইদের অনেক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে মাছের পোনা চাষ। এটি আরও বড় করে করা যেত, কিন্তু তা করা হয়নি। এগুলো আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—কিভাবে এই মাছের পোনা চাষ করে দেশ ও বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়।বিগত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। উপজেলা হাসপাতাল বলুন বা জেলা হাসপাতালই বলুন, যে ওষুধ, চিকিৎসা ও চিকিৎসক দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয়নি। যে কারণে গ্রামগঞ্জের মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায়নি। বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক চায় এবং তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। একজন অভিভাবক চায়, তার সন্তান যেন সেই শিক্ষা পায়, যে শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, বেকার থাকবে না।

0Shares

নিউজ খুজুন