উপলব্ধিতে চট্টগ্রামের মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম

অভিষেক চৌধুরী : শিশুদের পুনর্বাসনের উপযুক্ত স্থান খুঁজতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে উপলব্ধি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানার আগ্রহ থেকে উপলব্ধি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইজাবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপক শেলী রক্ষিতকে নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজে চরম ব্যস্ততার মধ্যেও ৫ জানুয়ারি সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন। আলোচনা শেষে সেদিনই তিনি প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত জানান।

 

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ফাউন্ডেশনে আশ্রয়প্রাপ্ত হারিয়ে যাওয়া, স্বজনহীন ও ঠিকানাবিহীন অসহায় ভাসমান মেয়েশিশুদের খোঁজখবর নেন। তিনি তাদের শিক্ষা, বসবাস ও সার্বিক কল্যাণ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৫ জন মেয়েশিশু বসবাস করছে, যাদের অনেকেই নিজেদের ঠিকানা কিংবা আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। এসব শিশুর জন্য ‘উপলব্ধি ফাউন্ডেশন’ই একমাত্র আশ্রয় ও ঠিকানা।

 

এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুদের জন্য এক বেলা খাবারের ব্যয় নির্বাহ এবং বই ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। শীতের তীব্রতা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিতে আশ্রয়প্রাপ্ত শিশুদের জন্য ৮৫টি কম্বল বিতরণ করেন। পাশাপাশি জেলার অভিভাবক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য দুই ঝুড়ি সুস্বাদু ফল উপহার দেন।
শিশুদের শিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে তিনি খাতা, কলম, রঙ পেন্সিল, ক্যালকুলেটরসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেন। একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হিসেবে ব্যাডমিন্টন ব্যাট, নেট, কর্ক, বাস্কেটবল, দাবা বোর্ড ও লুডু বোর্ড তুলে দেন শিশুদের হাতে।

উপলব্ধি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান এতটা হৃদয়গ্রাহী, এতটা সুন্দর এবং প্রাণবন্ত হতে পারে—তা আমার জানা ছিল না।” “উপলব্ধি নামটি প্রথম শুনেছিলাম আনোয়ারা উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর পুনর্বাসনের জায়গা খুঁজতে গিয়ে। নামটি শুনেই আমার ভেতরে নাড়া দিয়েছিল।” “মানুষ তো নিজের সন্তানের কথাই ভাবে। কিন্তু অন্যের সন্তানের কথা কয়জন ভাবে? অথচ আমরা নিজেদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব বলে দাবি করি।” “আমরা যারা সরকারি চাকরি করি, আমাদের সময় আসলে সরকারের কেনা। সেই কেনা সময় থেকেই আমাদের মানুষের জন্য সময় বের করতে হয়। আজ এখানে যে সময় ব্যয় করেছি, সেটাই আমার শ্রেষ্ঠ সময়।

0Shares

নিউজ খুজুন