এনসিপি তার লক্ষ্য আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে : নাহিদ

রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যে, আমরা আসন্ন এই নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে চাই এবং সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা চলছিল। আমরা সারা দেশ থেকে যারা প্রার্থী হতে চায় তাদের মনোনয়ন আহ্বান করেছিলাম।

‘পরবর্তীতে আরও দুইটি দলের সঙ্গে আমাদের একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল সংস্কার প্রশ্নে। তখন আমরা বলেছিলাম যে, আমরা তিনটি দল মিলে যে সংস্কার জোট, আমরা একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব। কিন্তু এরপরেই ‍জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর যেই শাহাদাতবরণ এবং তাকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড, এই শাহাদাতবরণের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি যে, বাংলাদেশে যে আধিপত্যবাদী আগ্রাসনবাদী শক্তি, তারা এখনো কার্যকর রয়েছে।’ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যাদের আমরা পরাজিত করেছিলাম, তারা এখনো চক্রান্ত করছে নির্বাচন বানচাল করার জন্য। তারা চক্রান্ত করছে এই যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সেটাকে ব্যাহত করার জন্য। এবং তারা চক্রান্ত করছে এই জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য। সেদিন ওসমান হাদির গায়ে গুলি লেগেছে, কালকে আপনার গায়ে লাগবে, পরশুদিন আমার গায়ে লাগবে। কারণ প্রথম এবং প্রধান টার্গেট করা হচ্ছে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে সারাদেশের তরুণরা, নাগরিকরা, শহীদ পরিবার, আহতযোদ্ধা, তাদের।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছি যে, আমাদের এই মুহূর্তে এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য, প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য এবং যাতে আধিপত্যবাদী কোনো শক্তি আমাদের এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অগ্রযাত্রাকে ঠেকাতে না পারে, সেজন্য আমাদের বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। সেই তাগিদ থেকেই আমরা জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের যে সমমনা আট দল রয়েছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি এবং তাদের যে নির্বাচনী সমঝোতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সেই নির্বাচনী সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং এই সমমনা আট দলের সঙ্গে একত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিষয়টা হচ্ছে, এই নির্বাচনী সমঝোতা একদিকে যেমন নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, অন্যদিকে আমাদের যেই এনসিপি প্রথম থেকেই সংস্কার, বিচার প্রশ্নে আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম, সেই সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী, দুর্নীতিবিরোধী—এই বিষয়গুলোতে আমাদের ন্যূনতম কর্মসূচিও থাকবে। রাজনৈতিক জায়গায় আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের এই সংকটগুলো রয়েছে, যেখান থেকে এই বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে, জুলাই প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী যেই আমাদের আকাঙ্ক্ষা সেটা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, এজন্য আমরা একটা বৃহত্তর ঐক্যের জায়গায় পৌঁছেছি।

আগামীকাল জোটের প্রার্থীর বিষয়টা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে এবং সমঝোতায় আমাদের যেই প্রার্থী তারাই নমিনেশন ফর্ম জমা দেবেন। সারা বাংলাদেশে আমরা একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ও তাদের সহযোগী সংগঠন গণভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে এবং যেখানে আমাদের প্রার্থী থাকবে নাকি সেখানে অন্য যারা প্রার্থী থাকবেন এই সমঝোতার, তাদের সহায়তা করবেন, তাদের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবেন। এনসিপি তার অবস্থানেই আছে। এনসিপির সাথে একটা… আমরা একটা বৃহত্তর ঐক্য করেছি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এবং যেটা মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আমাদের এই যাত্রাটা থাকবে। কিন্তু এনসিপি তার লক্ষ্য আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে, অন্য দলগুলো তার লক্ষ্য আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে।

আমরা কিন্তু এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। যেকোনো বিষয়ে মতামত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের ভেটো থাকতে পারে, বিরোধিতা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি নির্বাচন করবেন কিনা, দলে থাকবেন কিনা, এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।  আমরা মনে করি যে, আমরা সারা বাংলাদেশ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যারা নেতাকর্মী রয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন এবং তার কেন্দ্রীয় কমিটির সবাই এই সিদ্ধান্তে ঐকমত্য রয়েছেন।

0Shares

নিউজ খুজুন