
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ট্যুরিজমের আগে দেশের এই অনন্য প্রতিবেশকে বাঁচাতে সংরক্ষণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাসহ মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহায়তায় ‘Strategic Consultation Workshop Held on Saint Martin’s Island Master Plan’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের একটা অংশে দ্বীপ সংরক্ষণে ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলে এটা সহজে অনুসরণীয় হবে। সংরক্ষণের স্বার্থে এখানে ট্যুরিজমকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আগত বহিরাগতদের ক্ষতিকর আধিপত্য রোধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্ল্যান বাস্তবায়নে আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে। এখানে বসবাসকারীদের জন্য বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। মাছ ধরা, শুটকির ব্যবসা, হস্তশিল্প এমনকি ট্যুরিজমও বিকল্প পেশা হতে পারে।
অসাধারণ পরিবেশগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্রবাল ও ঝিনুক আহরণ, টেকসই নয় এমন মৎস্য আহরণ পদ্ধতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে গুরুতর পরিবেশগত অবক্ষয়ের মুখে রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA) হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনাকে একত্র করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সেন্টমার্টিন দ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা।
