
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আফিস মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৈঠক পরবর্তী আফিস মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যেই ৪৫টা আসনে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং এর বাইরেও আরও যে যে জায়গায় নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং এসব বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, বিধিপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেহেতু সামনে শুনানি আছে, সেই শুনানিতে যেন এ ধরনের কোনো প্রেফারেন্স এবং একতরফা কিছু না দেখা যায় সে বিষয়ে আজকে কথা বলতে এসেছি। আমি যদি দুইটা উদাহরণ দেই, জাতীয় নাগরিক পার্টির দুইজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে, যেমন কুমিল্লা-৪ সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রার্থী হিসেবে আছেন।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিগত কিছুদিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন দেশে এসেছেন। আমরা অবশ্যই তাকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে, পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু এর পরপরই যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা একটি নির্দিষ্ট দলীয় কার্যালয়ের দিকে কার্যত তাদের ‘কেবলা’ ঠিক করে ফেলেছেন। তারা সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।
আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। বিগত সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে যে ধরনের অনিয়ম ও অসদাচরণ আমরা দেখেছি, সেগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ ধরনের ধৃষ্টতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাব, যেসব সরকারি কর্মকর্তা সেখানে গিয়েছেন, তারা স্পষ্টভাবে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও উৎসাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তাতে ভাটা পড়েছে।
তাই আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি, যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জনগণ আবারও রাজপথে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নামতে বাধ্য হবে, যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।
