ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে নির্বাচন ভবনে বৈঠক করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে এর আগেও বলেছিলাম যে, গত প্রায় এক দেড় বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। বিশেষ বিশেষ কিছু এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছে যেটা অস্বাভাবিক। এরকম কখনো আগে হয়নি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তার সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে যেটা জানিয়েছে, সেটা হলো কোনো আসনেই দুই-তিন হাজারের বেশি মাইগ্রেশন হয়নি। তাদের কথায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা নিশ্চিত তাদের এই তথ্য যারা সরবরাহ করেছে তারা সঠিক তথ্য সরবরাহ করেনি। প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। এটার মধ্যে যদি কোনো সন্দেহ করার মতো থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশনের উচিত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া।
যেখানে চার পাঁচজনের লোকের বেশি বসবাসই করেন না সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। স্পেসিফিক হয়তো হোল্ডিং নাম্বারই নাই কিন্তু সেখানেও ভোটার করা হয়েছে। এগুলো কিছু মন্দ লোকরা করছে। কিছু লোক ভোটার আইডি, বিকাশ নাম্বার এগুলো নিয়ে কেলেঙ্কারি করেছে তারাই সম্ভবত এ ধরনের ভুয়া ভোটার বা ভোটার মাইগ্রেশনের এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা যথাযথ হওয়া দরকার যাতে অবাধ, সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য যেকোনো রকম ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন তার আইনানুক সাংবিধানিক যে ভূমিকা সেটা যেন তারা পালন করেন।বিএনসিসিকে নির্বাচনে যুক্ত না করে আইনে যা উল্লেখ আছে তাদেরই নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। তারা আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার নামে একটা করে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে আলোচনা শুনেছি। নির্বাচন কমিশন বলেছেন এ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নাই। তারা এ ধরনের কোনো কমিটি করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেন নাই। নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছে। আইনে এটার কোনো বাধা নাই, করতে পারে তবে তারা যেহেতু সেই এলাকায় স্থানীয় না সবাই তাদের চেনে না। অতএব তারা যেন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের দুইদিন আগে সে এলাকার থেকে চলে যায়। তারা যেন সেখানে না থাকে এবং সেখানে থেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ না দেয় সেজন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এটা স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া যে নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড যখন বন্ধ হয়ে যায় তারপরে আর সেখানে যারা ভোটার না এমন কারো থাকা উচিত না।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা খুব বেশি পরিচিত নয় কিন্তু তাদের নামে অনেক পর্যবেক্ষক আমরা দেখেছি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাদের সক্ষমতা আছে নির্বাচন তাদেরই পর্যবেক্ষণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। এটাও ইসি দেখবে বলেছে। এমন সব নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা হচ্ছে যেটা শুধু আইন অমান্য বা আইন ভঙ্গকারী না, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস আমাদের আবেগকে আহত করছে। অথচ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যেমন আমরা দেখেছি একটি দলের পক্ষে বক্তৃতা করছেন যে, কবরে চারটা প্রশ্ন করা হয়। আসলে মুসলমান আমরা সবাই জানি যে তিনটা প্রশ্ন করা হয়। তোমার ধর্ম কি? তোমার রব কে এবং তোমার নবী কে? এখন উনারা বলতেছে যে, চতুর্থ প্রশ্নটা করা হবে যে তুমি একটা নির্দিষ্ট মানে সেই প্রতীকে ভোট দিয়েছো কিনা না? এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার। মানুষের আবেগকে পুঁজি করা হচ্ছে।