
অভিষেক চৌধুরী : চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিগুলোতে সাধারণত যে কোলাহল শোনা যায়, আজ তার কিছুটা কমতি। কনটেইনার ওঠানামার ক্রেনগুলো স্থির, ট্রাকের সারি ছোট হতে হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরের প্রাণকেন্দ্রে যেন হঠাৎ থমকে যাওয়ার প্রচেষ্টা। কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের কর্মবিরতির ডাকে যেন অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আজ অদ্যবধি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করছে বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে।
যেন বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ সেই বন্দরের এই স্থবিরতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকেই নয়, ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করবো অর্থনীতিতে। ফলে আরো দৃঢ় সৃষ্টি হবে বন্দরের কনটেইনার জট, জাহাজ জট এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠান এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করে রাখা ও চুক্তি করার উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতির সূত্রপাত। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও সব শ্রমিক সংগঠন এই কর্মবিরতিতে এই দাবিতে একত্রিত। এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মচারীরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দও কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের সাথে সংযুক্ত ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করেছে।
একদিকে বন্দর সংলগ্ন এলাকায় এক মাসের জন্য মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বন্দর ভবনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। প্রধান ফটকে রয়েছে সরব পুলিশের উপস্থিতি।
আন্দোলনে যুক্ত একজন বন্দর শ্রমিক জানান, আমরা কাজ বন্ধ করতে চাইনি। চট্টগ্রামের ও অর্থনৈতিক প্রাণ কেন্দ্র বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে অনেকবার আমরা আন্দোলন করেছি কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না, তখন বাধ্য হয়েই এই পথ বেছে নিতে হয়েছে।”
প্রতিদিন যে পরিমাণ কনটেইনার ওঠানামা হতো, তার তুলনায় এখন কাজ হচ্ছে খুবই সীমিত আকারে। এতে একদিকে যেমন জাহাজ মালিকদের লোকসান বাড়ছে, অন্যদিকে আমদানিকারক-রপ্তানিকারকরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। রপ্তানি পণ্যের চালান সময়মতো পাঠানো না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরা এই আন্দোলনের কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা পক্ষ ইন্দন রয়েছে কিনা বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। কারণ এই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমাদানি- রপ্তানির মাধ্যমে বাজারে দ্রব্যমূল্য বিষয়টি কাজ করে থাকে। তাই এটির মাধ্যমে রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়ঁতারা থাকতে পারে।
