লোহাগাড়া থেকে মোঃ ইউসুফ : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সুরক্ষায় উপজেলার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২ বছর পূর্বে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। বিদ্যালয় শুলো হল যথাক্রমে আমিরাবাদ নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ল, জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বড়হাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী শামশুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আধুনগর ধামির পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রভৃতি। নির্মাণ কাজের আইনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পায় খোকন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পসমূহ ২০২১-২০২২ অর্থবছরের। প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ দশ লক্ষাধিক বলে জানা গেলে ও সঠিক বরাদ্দের পরিমাণ কেউ জানাননি। কার্যাদেশ পাওয়ার পর উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয় গুলোতে কিছু কিছু কাজ করে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখে ঠিকাদারের লোকজন চলে যান প্রায় দেড় থেকে দু’বছর পূর্বে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদার সিংহভাগ বিলের টাকা ও তুলে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ বিভিন্ন সময় উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে যোগায়োগ করে ও সুফল লাভে ব্যর্থ হয়েছেন।
নির্ভরয়োগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি বিদ্যালয়সমূহ পরিদর্শন করলে প্রতিটি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের অসমাপ্ত কাজ উক্ত প্রতিনিধির দৃষ্টিগোচর হয়। ২৩ এপ্রিল বিদ্যালয়সমূহের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ যথাক্রমে নজির আহমদ, মুজিবুর রহমান, জিয়াউল হক, আব্বাস উদ্দীন, ছেনুয়ারা বেগম’র সহিত মুঠো ফোনে পৃথক পৃথকভাবে আলাপ করলে তাঁরা প্রত্যেকে এ’ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, উপজেলার সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে বার বার ধর্ণা দেয়ার পরও এ পর্যন্ত কোন সন্তোষজনক জবাব পাননি। এ, প্রসঙ্গে ২৪ এপ্রিল মুঠো ফোনে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ হাসান’র সহিত আলাপ করলে তিনি বলেন, প্রায় ৮ মাস পূর্বে তিনি লোহাগাড়ায় যোগদান করেছেন। অনেক বিষয়ে তিনি অবগত নন। উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সাথে সাথে ইউএনও-কে জানান। এ ব্যাপারে তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই ঠিকাদার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি। একই সময় উক্ত বিষয়ে আলাপ করার জন্য উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর’র সহিত মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তাঁর বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ইউএনও-কে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই এর একটি সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপর দিকে একই সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি তরুণ হোসাইন’র সহিত মুঠো ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, বিশেষ কারণে এতোদিন তাঁরা ওয়াশ ব্লকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। অতি শীঘ্রই অর্থাৎ আগামী জুন মাসের পূর্বেই তাঁরা কাজ সম্পন্ন করে দেবেন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে ঠিকাদার যেন নিন্মমানের কোন ধরণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে না পারেন তার জন্য তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।