ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। ধর্মের বিষয়ে শুধু প্রকৃত আলেম-ওলামাদের ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য। কোনো অপব্যাখ্যাকে গ্রহণ করা হবে না। বরিশালে ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন বিভিন্ন সময়ে যারা ধর্ম নিয়ে, আল্লাহ ও রাসুল নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছে তাদেরকে আমরা যতদ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। আগামীতেও যদি বাংলার মাটিতে আল্লাহ, রাসূল, কোরআন নিয়ে কেউ কোনো কটূক্তি করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।আমরা কোনক্রমেই আইন হাতে তুলে নেব না। আইন হাতে তুলে নিলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। কেউ কোনো অন্যায় করলে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে তার জন্য প্রশাসন রয়েছে। তিনি সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান।
আলেম-ওলামা, পীর, মাশায়েখরা শতশত বছর ধরে ইসলামি ভাবধারা জাগরণ ও ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। এখনও করে যাচ্ছেন। আলেম-ওলামাদের মেহনত কখনও ব্যর্থ হয়না। আগামীদিনেও ব্যর্থ হবে না।একটি সুযোগ এসেছে ৫৪ বছর পর। সুযোগ বারবার আসে না। একে অন্যের হাত ধরুন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। খোলাফায়ে রাশেদীনের আদলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।
চরমোনাইয়ের স্মৃতিচারণ করে ড. খালিদ বলেন, আমি বহুবার এই ময়দানে এসেছি। এখানে মানুষ আসে দ্বীনের খোরাকের জন্য। এখানে কোনো শিরক, বেদাত নাই। এখানে সুন্নতের ওপর আমল করা হয়। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ সত্যিকার ইসলামকে গ্রহণ করে, জানতে চান, মানতে চান, তাদের মধ্যে আল্লাহ ভীতি আছে।
চরমোনাই দরবার শরীফের পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে উক্ত ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গর্ভনরসের সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।